প্রযুক্তি

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম- কৃমি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানুন

প্রিয় পাঠক আপনি কি কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আজকের ফিচার পোষ্টি আপনার জন্য। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম, কৃমি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 কৃমি এক ধরনের পরজীবী যা মানুষের অন্ত্রে বস বাস করে বিভিন্ন বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ছোট, বড় সকল জেনারেশনের মধ্যে এই পরজীবীটি বিরাজমান। কৃমি দেহে থেকে রক্ত খাওয়ার পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যার জন্য দায়ী। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই ট্যাবলেট খেলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে কৃমি হওয়ার লক্ষণ, কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম ও দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। কিন্তু তার আগে কৃমি সম্পর্কিত সকল তথ্য বিস্তারিত জেনে নেব।

কৃমি কি

 কৃমি হচ্ছে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে বসবাসকারী একধরনের পরজীবী। পরজীবী হওয়ায় পোষক দেহ থেকে খাবার গ্রহণ করে। এরা সাধারণত অন্ত্রে বসবাস করে রক্ত খেয়ে বেচেঁ থাকে। এর ফলে রক্তশূণ্যতার পাশাপাশি না জটিলতার দেখা দিতে পারে। ছোট, বড় সকল বয়সের মানুষের দেহে এই পরীজীবীটি থাকতে পারে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম ও দূর করার উপায় জানলেই এর থেকে মুক্তি মেলবে।

কৃমির প্রকারভেদ

মানবেহে বিভিন্ন ধরনের কৃমি দেখা দিতে পারে। সাধারণত কেচোঁকৃমি, গোলকৃমি ও বক্রকৃমির উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। অনেক সময় বাচ্চাদের নাক ও মুখ দিয়ে গোলকৃমি বের হতে দেখা যেতে পারে। শ্বাসনালী ও পিত্তথলীর মত অন্যান্য অঙ্গে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই কৃমির হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

কৃমির প্রকারভেদ ও কৃমি হওয়ার লক্ষণ
কৃমির প্রকারভেদ ও কৃমি হওয়ার লক্ষণ

কৃমি হওয়ার লক্ষণ

 মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের কৃমি রয়েছে। এরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে। শরীরে কোন ধরনের কৃমি বসবাস করছে এর উপর কৃমি রোগের লক্ষণ নির্ভর করে। ব্যক্তিভেদে কৃমি হওয়ার লক্ষণ আলাদা হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ সব ব্যক্তির দেহে দেখা যায়। চলুন তাহলে কৃমির প্রাধান লক্ষণগুলি জেনে নেই।

  • হজমে সমস্যাঃ পেটে কৃমি থাকলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসিডিটি, বদ হজম ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পেট ব্যাথা ও ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
  •  ক্লান্তিঃ পেটে কৃমি হলে হজমে সমস্যা হয় ও শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিউপাদান শোষণ করতে পারে না। তাছাড়াও কোন কোন কৃমি চোষকের সাহায্যে রক্ত চোষে নেয়। এর ফলে দেহে রক্তস্বল্পতা ও ক্লান্তিবোধ অনুভব হয়। 
  •  পেটব্যাথাঃ পেটে কৃমি থাকলে পেট ব্যাথা দেখা দেয়। কিছু কৃমি আছে পৌষ্টিকতন্ত্রে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র করে ফলে পেটে ব্যাথা অনুভূত হয়। 
  • বমি বমিভাবঃ কৃমির ফলে মাঝে মাঝে বমি বমি ভাব মুখে লালা আসে যা কৃমি হওয়ার লক্ষণ।
  • হজমে সমস্যাঃ পেটে কৃমি হলে এসডিটি, বদহজম এমনকি পেট ফুলে যেতে পারে।
  • পেট মোটা বা ভারি হওয়াঃ পেটে অতিরিক্ত কৃমি উপস্থিতি থাকলে পেট মোটা বা ভারি হয়ে যায়।
  • খাবারে অরুচিঃ কৃমি হলে খাবারে অরুচি দেখা দেয় ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি পুষ্টিহীনতায় ভোগে।
  • মুখে থুতু উঠাঃ কৃমি হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হল আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে কিছুক্ষন পর পর থুতু আসে যা খুবই বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
  • চুলকানিঃ কোনো কোনো ক্রিমিতে পায়খানার রাস্তার আসেপাশে চুলকানি হতে পারে।
  • রক্তশূন্যতাঃ কৃমি হলে দেহে রক্তশূন্য দেখা দেয়। হুক ওয়ার্ম গ্রুপের কৃমির একমাত্র খাবার হচ্ছে রক্ত। দেহে এই কৃমির উপস্থিতিতে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
  • এ্যাপেন্ডিক্সের সমস্যাঃ মাঝে মাঝে বক্রকৃমির এক মুখ বাচ্চাদের এ্যাপেন্ডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে ফলে এই অঙ্গের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • নাক বা মুখ দিয়ে কৃমি আসাঃ অনেক সময় বাচ্চাদের নাক মুখ দিয়ে ক্রিমি পড়তে দেখা যায়।

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

কৃমির প্রতিরোধ বা দূর করার অন্যতম উপায় হচ্ছে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়া। তবে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। সঠিক নিয়মে ঔষধ সেবনই পারে আপানার কৃমিকে দূর করতে। কৃমি দূর করার জন্য সর্বপ্রথম নিশ্চিত হতে হবে আপনি কি আদৌ কৃমির সমস্যায় ভোগছেন কি না? আপনার দেহে যদি কৃমি রোগের লক্ষণ থাকে তাহলে কৃমির ঔষধ সেবন করতে হবে।

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম। কৃমি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানুন
কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম। কৃমি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানুন

পরিবারের একজন ব্যক্তির দেহে কৃমি প্রবেশ করলে তার থেকে অন্য সদস্যের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিজে একা একা কৃমির ট্যাবলেট না খেয়ে ফ্যামিলির সবার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। কৃমি দূর করার জন্য তিন মাস অন্তর একই দিনে পরিবারের সকল সদস্যের ট্যাবলেট খেতে হবে।

শিশু বা বাচ্চার বয়স ২ বছর হলেই কৃমির ট্যাবলেট খেতে পারবে। এর থেকে কম বয়সী শিশুদের কৃমিনাশক সিরাপ রয়েছে। বাচ্চার বয়স ও শরীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তার সিরাপের ডোজ দিয়ে থাকন।

প্রাপ্ত বয়স্কদের কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর Albendazole ও Mebendazole গ্রুপের ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। সেক্ষত্রে ট্যাবলেটের ৪০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট খেতে হবে। বেশির ভাগ রাতের বেলায় ট্যাবলেট খেতে হবে। তবে খালি পেটে কৃমির ঔষধ খেলে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই খালি পেটে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ থাকবে।

বাচ্চাদের কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

ছোট বাচ্চা বা শিশুদের কৃমির সমস্যার প্রকট আকার ধারন করে। অনেক সময় নাক, মুখ দিয়ে কৃমি পড়তে দেখা যায়। অনেকের ভ্রান্ত ধারনা আছে বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ানো যাবে না। আসলে এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। বাচ্চাদেরও কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে। কিন্তু বিশেষ্ণ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খাওয়াতে হবে।

বাচ্চাদের কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
বাচ্চাদের কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
কৃমি দূর করার উপায়

ছোট বড় সকল বয়সের মানুষের কৃমি রোগ হতে পারে। তবে কৃমি হওয়ার কিছু কারন রয়েছে। কৃমি দূর করার উপায় জানতে হলে প্রথমেই কৃমি হওয়ার কারনগুলি জানতে হবে। বিশেষ করে যে সকল লোক নোংরা স্যাতসেতেঁ জায়গায় বাস করে তাদের কৃমি রোগ হওয়া সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি।

আমাদের অনেকের দেখা যায় যে পায়াখানা করা হাত পরিষ্কার করে না। এর কারনেও কৃমি রোগ হতে পারে। পায়খানা বা মলের মাধ্যমে কৃমির জীবানু ছড়িয়ে পড়ে।পায়খানা ব্যবহারের পূর্বে স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত। স্যান্ডেল ব্যবহার করলে কৃমির জীবানু সহজেই দেহে প্রবেশ করতে পারবে না।

কৃমি দূর করার উপায় ও কৃমির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কৃমি দূর করার উপায় ও কৃমির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

শুধু কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম মেনে চলবে না কিছু পারিপার্শিক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। দেহে কৃমির উপস্থিতি থাক বা নাক তবুও তিন মাস অন্তর কৃমি প্রতিরোধকারী ট্যাবলেট খেতে হবে। যেদিন ট্যাবলেট খাবেন ফ্যামিলির সাবাইকে নিয়ে খেতে হবে তাহলে কৃমি দূর করা সম্ভব হবে।

কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

সাধারনত কৃমির ঔষধ আকারে একটু বড় হয়ে থাকে। তাই কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে চুষে চুষে খাওয়া। তবে কেউ কেউ চাইলে পানি দিয়ে গিলে খেতে পারবেন। আর বাচ্চাদের জন্য কৃমির ট্যাবলেট না দিয়ে সিরাপ খাওয়ালে ভাল হয়। এতে সহজেই সিরাপ খাওয়ানো যায়।

কৃমির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কৃমির ওষুধের ওভার ডোজ গ্রহণের হলে দেহে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস্টোইন্টেস্টটাইনালের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেভেনডাজল ঔষধুটি গর্ভাস্থায় ভ্রুনের ক্ষতি করতে পারে। তাই এই অবস্থায় কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার পূর্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কৃমির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথা ব্যাথা, বমি বমিভাব দেখা দিতে পারে। তবে কিছুক্ষন পর তা ঠিক হয়ে যাবে।

পরিশেষে,

কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম গুলি মেনে চলতে হবে। কৃমি প্রতিরোধে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর কৃমির ঔষধ খেতে হবে। শিশু বা বাচ্চাদের যে কোন ঔষধ খাওয়ানোর পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। সর্বপোরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই দেহকে কৃমির হাত থেকে বাচাঁনো সম্ভব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button