প্রযুক্তি

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

বর্তমান সময়ের অন্যতম জটিল রোগ হচ্ছে হার্টের রোগ। আমাদের দেশে এই হার্টের রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে । তবে আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যারা হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে অবগত নন। প্রিয় পাঠক আপরা যদি এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে আমাদের এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন …..

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে হার্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার ,তার প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন ।

হার্টের রোগ বা হৃদরোগ কি?

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হলে হার্টের রোগ কি জানতে হবে। তাই আসুন সর্বপ্রথম জেনে নেই হার্টের রোগ কি । হার্টের রোগ বা হৃদরোগ হল এক ধরনের কার্ডিওভাসকুলার রোগ। হার্টের রোগ বা হৃদরোগ হচ্ছে হার্টের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধা দেয় এমন রোগ । এই রোগগুলি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

যেমনঃ জন্ম থেকেই হার্টের ত্রুটি বা হার্টে ছিদ্র (জন্মগত হার্টের ত্রুটি ),হৃদপিন্ডের পেশীকে প্রভাবিত করে এমন রোগ, ধমনীর মাধ্যমে রক্ত চলাচলে বাধা যা করোনারি আর্টারি ডিজিজ যা হার্ট অ্যাটাক ঘটায়, হার্টের ভালভ সঠিকভাবে কাজ না করা বা হার্টবিট জনিত সমস্যা(অ্যারিথমিয়া)।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ

নিচে হার্টের সমস্যার লক্ষণ গুলি আলোচনা করা হলঃ

বুক ব্যাথাঃ

বুকে ব্যথার মানে হল বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করা, যা আপনার শরীরের সামনে, আপনার ঘাড় বা পেটের উপরের দিকে অনুভব করেন। তবে বুকে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে যার সাথে হার্টের কোন সম্পর্কই নেই। কিন্তু বুকে ব্যথা প্রকৃত অর্থেই হার্টে দুর্বল রক্ত ​​​​প্রবাহ বা হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। এই ধরনের বুকে ব্যথাকে এনজাইনা বলে।

সাধারণত হৃদপিন্ডে পর্যাপ্ত রক্ত ​​বা অক্সিজেন সাপ্লাই না হলে বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথার পরিমাণ এবং ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে ব্যথার তীব্রতা দ্বারা সমস্যা কতটা গুরুতর তা সব সময় বুঝা যায় না।

আমাদের মাঝে অনেকে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে পারে, তবে কেউ কেউ শুধুমাত্র হালকা অস্বস্তি অনুভব করে।অনেক সময় মনে হতে পারে আপনার বুক ভারী হয়ে গিয়েছে কিংবা আপনার হার্ট কেউ চেপে ধরেছে। আবার আপনার বুকে জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন। আপনি আপনার বাম স্তনের হাড়ের নীচে বা আপনার ঘাড়ে, বাহুতে, পেটে, চোয়ালে বা উপরের পিঠে ব্যথা অনুভব করতে পারেন।

সাধারনত এনজাইনার কারণে বুকে প্রায়শই যে ব্যাথা শুরু হয় তা বিশ্রাম নেওয়ার মাধ্যমে অনেক সময় স্বাভাবিক হয়ে যায়। নাইট্রোগ্লিসারিন নামক ওষুধ সেবনের মাধ্যমেও এই ব্যাথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

নিঃশ্বাসে অসুবিধাঃ

আমদের হৃৎপিণ্ড যখন রক্ত ​​শরীরে পাম্প করতে পারে না, তখন ফুসফুস থেকে হৃদপিণ্ডে যাওয়া রক্ত ​​শিরায় জমা হয়। এর ফলে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়। একে হার্ট ফেইলিউরের উপসর্গ বলে ধরা হয়।
আপনার যখন শ্বাসকষ্ট হয় তা লক্ষ্য করতে পারেনঃ

  • কার্যকলাপের সময়
  • আপনি যখন বিশ্রাম করছেন
  • আপনি যখন চিত হয়ে শুয়ে থাকেন। এটি আপনাকে অনেক সময় ঘুম থেকে জাগিয়েও তুলতে পারে।

কাশি বা শ্বাসকষ্ট

স্বাভাবিকভাবে কাশি বা শ্বাসকষ্ট দূর না হওয়া হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে,এর কারণ হয়ত আপনার ফুসফুসে ফুলুইড জমা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কাশির সময় কফের সাথে গোলাপী বা রক্তাক্ত মিউকাস ও আসতে পারে।

রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যাওয়া

শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত ​​নিয়ে আসা রক্তনালীগুলো সংকুচিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে আপনার হার্টের সমস্যার লক্ষণ অনেকটা বেড়ে যায় । ধমনীর প্রাচীরে যদি কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ফ্যাট জাতীয় উপাদান জমে থাকলে এটি হতে পারে।এছাড়ও পায়ে ঠিকমত রক্ত ​​​​সরবরাহ না হলে যে সমস্যাগুলো হতে পারেঃ

  • পায়ের পেশী বা উরুতে ব্যথা
  • ক্লান্তি, জ্বালাপোড়া ভাব বা অস্বস্তি অনুভব হওয়া
  • প্রায়ই হাঁটা বা ব্যায়ামের সময় যে লক্ষণগুলো দেখা যায় এবং কয়েক মিনিট বিশ্রামের পর চলে যায়।
  • বিশ্রামে থাকার সময় পা অসাড় হয়ে যাওয়া। তখন পায়ে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে এবং ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।

ক্লান্তিভাব

সাধারনত ক্লান্তির অনেক কারণ থাকতে পারে। স্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব হয় যখন আপনি অনেক পরিশ্রম করেন। তবে এই ক্লান্তিভাব কখনো কখনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যা হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে । নিচের ক্লান্তির লক্ষণগুলি দেখে বুঝতে পারেবেন আপনার হার্টের সমস্যা রয়েছে :

  • স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্ত বোধ করেন।
  • এতটাই ক্লান্ত বোধ করেন যে আপনি আপনার স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারেন না।
  • হঠাৎ করে শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়।

মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ

মেয়েদের হার্টের গঠনগত সমস্যার জন্যই অ্যাজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি সব সময় সম্ভব হয় না । প্রধানত মেনোপজের পর মেয়েদের হার্টের সমস্যা অনেক বেশি হয়। মহিলা-পুরুষ উভয়ই হার্টের সমস্যার আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ কিন্তু মহিলা ও পুরুষ ভেদে আলাদা হয়ে থাকে । এর কারণ শারীরিক ভাবে, হরমোনগত ভাবে, পেশির গঠন এব অন্যান্য জৈবিক কারণে মহিলা ও পুরুষদের স্বাস্থ্যের মধ্যে বেশ কিছু প্রভেদ রয়েছে।তাই বিভিন্ন অবস্থায় মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ কিন্তু আলাদা হতে পারে।

স্বাভাবিক হার্ট
স্বাভাবিক হার্ট

পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের হার্টের আভ্যন্তরীণ প্রকোষ্ঠ গুলি ছোট। একই সাথে মেয়েদের হৃৎপিণ্ডের দেওয়ালও পাতলা হয়। এর ফলে মেয়েদের হার্ট একজন পুরুষের হার্টের তুলনায় ১০ শতাংশ কম রক্ত পাম্প করে। তাই মহিলাদের সামান্য কারণে যদি মানসিক চাপ বাড়ে তাহলে তখন হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। সেই সাথে হৃৎপিণ্ড তখন রক্ত তখন বেশি পাম্প করে। এবং এতে পুরুষদের তুলনায় তখন মেয়েদের হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ অনেক বেশি হয়। এই কারণে
মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ অনেক বেশি প্রকট আকার ধারন করে ।

অনেকে পেটে অত্যাধিক চাপ অনুভব করে যা অনেকটাই পেটের উপরের অংশে ভারী কিছু থাকার মতো, যা মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ। শ্বাস প্রশ্বাস স্বল্পতা ও বমি ভাব লাগে এবং হঠাৎ করেই যদি শ্বাস প্রশ্বাসের দ্রুত ওঠানামা দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে এটা হার্টের সমস্যার গুরুতর লক্ষণ। এই অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

হার্টের রোগীর খাবার তালিকা

কোন খাবার গুলো আমাদের হার্ট সুস্থ রাখে এই সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা রাখা আবশ্যক। কেননা আমরা প্রতিনিয়ত উল্টা পাল্টা খাবার খেয়ে আমাদের হার্টেকে ঝুকির দিকে ঠেলে দিচ্ছি। নিচে হার্টকে সুস্থ রাখে বা যারা হার্টের রোগের অলরেডি আক্রান্ত হয়ে গেছেন তাদের জন্য হার্টের রোগীর খাবার তালিকা দেওয়া হলোঃ

সুর্যমুখী তেল বা সুর্যমুখী বীজ

সুর্যমুখী তেল বা সুর্যমুখী বীজ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা আমাদের শরীরের এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এন্টি-অক্সিডেন্ট রাসরি হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

যদিও ডাক্তাররা বলেন যেকোনো তেলই শরীরের জন্য খারাপ । তাই হার্টকে ভালো রাখতে হলে খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। এঈ এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করলে আপনার ত্বক সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষিত হবে।এছাড়া হাঁপানি (অ্যাজমা), আর্থ্রাইটিস এর তীব্রতা হ্রাস করতেও সূর্যমুখী তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে।

মাছঃ

অনেক মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ পাওয়া যায় । যেমন স্যালমন, ম্যাকরেল এবং টুনামাছ। তাই সপ্তাহে অন্তত দুইদিন মাছ রাখুন খাদ্য তালিকায়। এছাড়া নির্দ্বিধায় খাওয়া যাবে ছোট মাছ যেমন- মলা, কাচকি, টাকি, বেলে ইত্যাদি।
এ গুলো ছাড়াও বেছে নেওয়া যেতে পারে পাবদা, শিং, কৈ ও মাগুরকে।

আবার ইলিশ মাছ বেশি করে খাবেন এতে উপকারী চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি পরিমাণে থাকে। হাইব্রিড মাছগুলো খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। অনেক গবেষকরা মনে করেন, সামুদ্রিক মাছ হৃৎপিন্ডের সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক। তবে নদীর মিঠা পানির বড় মাছের চর্বি বাদ দিয়ে শুধু মাছটুকু খাওয়া যাবে।

সয়াফুডঃ

সয়াবিন থেকে তৈরি পণ্যকে সয়া ফুড বা সয়া প্রোডাক্ট বলে । বিভিন্ন সয়া প্রোডাক্ট যেমন- সয়া দুধ, সয়া বিন, টফু ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। সয়াফুড গুলো শরীরের থেকে কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট দূর করে থাকে।সয়া ফুড কেবল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে তা নয়, ভাস্কুলার ফাংশন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই আপনার খাবার মেন্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সয়াবিন রাখুন।

সয়াবিন ভালো করে সেদ্ধ করে খাবেন। কারন, সয়াবিন হজমে সাহায্যকারী এনজাইম ট্রিপসিনের কার্যকলাপ কিছুটা ব্যাহত করে । আঁশ সমৃদ্ধ সয়াবিন হার্টের জন্য খুব ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পাওয়া যায় ৪৩ গ্রাম প্রোটিন।

কাঠবাদামঃ

কাঠবাদামে রয়েছে মনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম যা হার্ট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কাঠবাদামের ভিটামিন ই হার্টের বিভিন্ন রকম রোগ হবার আশঙ্কা দূরে রাখে। আবার উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যেমন অ্যালমন্ড, ছোলা এবং আখরোট ফল।

অলিভ অয়েলঃ

ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমানো ও ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্বল হার্টের রোগীদের জন্য অলিভ অয়েল অত্যন্ত কার্যকরী । সম্প্রতি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণ করেছেন একদল গবেষক।

শিমঃ

করোনারি হার্ট ডিজিস কমাতে সহায়ক ম্যাগনেশিয়ামপূর্ণ শিম, শস্য এবং সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি। এই সব খাবারে স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসে।

আমলকিঃ

হার্টকে ভালো রাখার জন্য আমলকি অন্যতম ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এটি প্রায় সব ধরনের কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে।

হলুদঃ

হার্টের অসুখে কাচা হলুদও কার্যকারী ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টরয়েছে যা প্রদাহজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে।

রসুনঃ

কাচা রসুন কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবেই এটা হার্টের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু রক্ত চলাচলকেই স্বাভাবিক রাখে না , সেই সাথে হার্টকেও সুস্থ রাখে।

আদাঃ

আদা রক্তনালীকে বিশ্রাম দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে চালু রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ফ্ল্যামেটরি হিসেবেও যুদ্ধ করে আদা।

বিলবেরিঃ

বিলবেরি ব্ল্যাকবেরির মতোই একটি ফল। এটিও হার্টের সমস্যার জন্য অত্যন্ত
কার্যকরী এবং ফলটি রক্ত চলাচলকেও সচল থাকে। এই ফলটি নিয়মিত খেলে হার্টের যে কোনো সমস্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

লাল মরিচঃ

লাল মরিচ হার্টের জন্য সঠিক ওষুধের কাজ করে। এটি হার্টের জন্য পুষ্টিকর খাবারও বটে। অন্যদিকে হার্টের জন্য এর প্রভাব কাঁচামরিচ থেকে ভালো।

গ্রিন টিঃ

হার্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ওষুধের কাজ করে গ্রিন টি । এটা রক্তের শিরাকেই সচল রাখে এবং শিরাকে রক্ষাও করে থাকে । বিভিন্ন গবেষকদের ধারণা, রক্তনালীর উপর এই সবুজ চা’র প্রভাব রয়েছে। তাই নিয়মিত গ্রীন টি গ্রহণ করা হলে রক্তনালী শিথিল হয় এবং রক্তচাপের পরিবর্তন হলেও তা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এতে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

পুদিনা পাতাঃ

পুদিনা পাতা হার্টের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এটি রক্তের শিরায় অক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। তাছাড়ও পুদিনা পাতা খেলে হার্টেররোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একদমই থাকে না।

হার্টের সমস্যার প্রতিরোধ

মুলত জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন হার্টের সমস্যার প্রতিরোধ করতে পারে। এ রকম কিছু বিষয় হচ্ছেঃ

  • সুষম খাবার খাওয়া: আমাদের হার্টের সমস্যা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই।সাধারনত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, তাজা ফল, শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্রানীজ চর্বি, লবণ এবং চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে ফেলুন।
হার্টের রোগীর খাবার তালিকায় সবুজ সবজি
হার্টের রোগীর খাবার তালিকায় সবুজ সবজি
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা:নিয়মিত ব্যায়াম করলে হৃৎপিণ্ড ও রক্ত সংবহনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে, কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে । একজন সুস্থ ব্যক্তির প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ব্যায়ামের করা উচিত।

  • শরীরের মাঝারি ওজন বজায় রাখা: কখনো কখনো অতিরিক্ত ওজন হার্টেরের সমস্যার কারন হতে পারে । একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির Body mass index (BMI) হওয়া উচিত সাধারণত ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে। এর থেকে বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন ধরা হয় । যা স্থুলতার প্রথম ধাপ ।

  • ধূমপান ত্যাগ করা বা এড়িয়ে চলা: ধূমপান হার্ট এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির একটি প্রধান কারণ। ধূমপানের ফলে হার্টের রোগ ছাড়াও ফুসফুসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে ।

  • অ্যালকোহল সেবন বাদ দেয়া :অ্যালকোহল সেবন হার্টের সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী । তাই অ্যালকোহল সেবন করা বাদ দিতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ:মাঝে মাঝে হার্টের বিভিন্ন টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া হার্টে কোন সমস্যা আছে কিন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস এর মতো রোগ হৃদরোগকে প্রভাবিত করে। তাই এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন।

হার্টের সমস্যা হওয়ার কারণ

একজন মানুষের হার্টের সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক থাকতে পারে । আবার এক দুইটি মেজর কারনেও কেউ কেউ হার্টের সমস্যা অনুভব করতে পারেন । তাই হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের এই সমস্যা কেন হয় জানতে হবে। নিচে হার্টের সমস্যার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হলঃ

  • হার্টের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া
  • রক্তনালীতে সমস্যা
  • হার্টে অক্সিজেন এবং পুষ্টি কম সরবরাহ হওয়া
  • হার্টবিট জনিত সমস্যা

অনেক ক্ষেত্রে, জেনেটিক কারণও রয়েছে। যাইহোক, জীবনযাত্রার ধরন এবং বিভিন্ন চিকিৎসাও হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • উচ্চ কলেস্টেরল
  • ধূমপান
  • অধিক অ্যালকোহল পান করা
  • অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতা
  • ডায়াবেটিস
  • হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস
  • প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এমন খাবার খাওয়া
  • বয়স
  • পরিশ্রম কম করার প্রবণতা
  • নিদ্রাহীনতা
  • উচ্চ চাপ এবং উদ্বেগ ইত্যাদি

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

হার্ট যদি অধিক পরিমাণে ব্লক থাকে তাহলে বুকে ব্যথা হয়। এই ব্যাথা আস্তে আস্তে বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও হাঁটার সময় ও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় বুকে ব্যথা হয় এবং থামলে ব্যথা কমে যায়।নিচে হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ গুলি দেয়া হলঃ

  • দম নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হয়।
  • বুকে জ্বালাপোড়া ও ধড়ফড় করে।
  • গলা, কপাল ও মাথা ঘেমে যাওয়া।
  • নিচের দিকে হেলে কিছু করার ও একটু ভারী কিছু বহনের সময় কষ্ট হয়।
  • খাবার হজম না হওয়ার মতো অস্বস্তি লাগে।

সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায়

আজকাল একটু বয়স হলেই মানুষের হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার করা নিয়ে ভাবতে দেখা যায়। তবে ছোটদেরও হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময়ে বয়সের সাথে সাথে এই সমস্যা অনেকটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদি ধমনীর প্রবাহপথ কোন কারণে সরু বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, এই বাধাকে হার্ট ব্লক বলে আমরা বেশ পরিচিত।

অনেক সময় হার্টে ব্লক ধরা পড়লেই রোগীকে অপারেশন করতে বলা হয়। কিন্তু অপারেশন ছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনি হার্ট ব্লক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাহলে আসুন জেনে নেই সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার উপায় ।

মিশ্রণ প্রস্তুতের উপকরণ-

  • লেবুর রস- ১ কাপ
  • আদার রস- ১ কাপ
  • রসুনের রস- ১ কাপ
  • আপেল সাইডার ভিনেগার- ১ কাপ
  • মধু- ৩ কাপ

মিশ্রণ প্রস্তুতের উপকরণ-

  • লেবুর রস- ১ কাপ
  • আদার রস- ১ কাপ
  • রসুনের রস- ১ কাপ
  • আপেল সাইডার ভিনেগার- ১ কাপ
  • মধু- ৩ কাপ

প্রস্তুত পদ্ধতি-

প্রথমে লেবুর রস, আদার রস, রসুনের রস এবং আপেল সাইডার ভিনেগার একত্রে মিশিয়ে নিতে হবে । এরপর হালকা জ্বালে আধা ঘণ্টা ফুটিয়ে নিতে হবে । ফুটানোর পর ৪ কাপ থেকে তিন কাপ পরিমাণ হয়ে যায়।

সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার মিশ্রণ প্রস্তুত
সার্জারি ছাড়া হার্ট ব্লক খোলার মিশ্রণ প্রস্তুত

এবার এই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে নিতে হবে । ঠাণ্ডা হবার পর এর সাথে ৩ কাপ মধু ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে ।এই মিশ্রণটি যদি আপনি প্রতিদিন সকালে খাবারের আধা ঘণ্টা আগে এক চামচ করে খান । তাহলে মাত্র অল্প কয়েকদিনের মাঝে হার্ট ব্লক খুলে যাবে।

হার্টের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা/ হার্টের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা

অনেক সময় কারও হার্ট অ্যাটাক হলে আশেপাশের লোকজন হৈ হুল্লোড় করে রুগীকে আরও নার্ভাস করে দেয়।
হার্টের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা একজন রুগীকে ৫০ ভাগ হার্টের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিচে হার্টের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা দেয়া হলঃ

রুগী যেন ঘাবড়ে না যায় এর জন্য তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে এবং তাকে রিলেক্স অবস্থায় নিয়ে আস্তে হবে।

রক্ত চাপ কমাতে তাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে । তার মুখে খেয়াল করতে হবে সে যেন হা করে শ্বাস নিতে দিন পারে

রুগির শরীরে শ্বাসপ্রশ্বাস, শরীরে পালস নিয়মিত লক্ষ রাখতে হবে । শ্বাসপ্রশ্বাসের কোন প্রকার সমস্যা হলে তার মুখে মুখ লাগিয়ে তাকে কৃত্রিম শ্বাস নিতে সাহায্য করতে হবে ।

শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাত পা হালকা মেসেজের মত করতে হবে।রুগী যেন নিজে থেকে হাত তুলতে পারে কিনা সে দিকে খেয়াল করতে হবে

হার্টের ওষুধের নাম

বিভিন্ন ওষুধ হৃদরোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে। সাধারণত ডাক্তার রোগের ধরন বুঝে রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।আপনি হার্টের হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার এর জন্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন না। রোগ ধরা পড়লেই কেবল ওষুধ দেয়া হয়। তবে প্রধান ওষুধের প্রকারগুলো হচ্ছেঃ

অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস: এই ধরনের ওষুধগুলি জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে পারে।

অ্যান্টিপ্লেটলেট থেরাপি: এই ওষুধ গুলির মধ্যে রয়েছে অ্যাসপিরিন যা জমাট
বাঁধা প্রতিরোধ করতে পারে।

অ্যাঞ্জিওটেনসিন; রিসেপ্টর ব্লকার: এ ওষুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আমাদের পরামর্শ থাকবে কোন প্রকার ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া না নেয়ার । কেননা আপনার হার্টের সমস্যা ছাড়াও অন্য কোন সমস্যা হতে পারে ।

হার্ট ভালো রাখার উপায়


সাধারনত যে কোন রোগ মানুষ চাইলে বিভিন্ন উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে । হার্টের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা । যদি কেউ নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, হাঁটাহাঁটি এবং কোলেস্টরলও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে তাহলে এগুলো হবেরহার্ট ভালো রাখার
কার্যকর উপায়।হৃদরোগের জন্য মৌসুমি ফল , সবুজ সবজি খাওয়া ভাল এবং তৈলাক্ত খাবার হৃদরোগের জন্য বেশি ক্ষতিকারক। এছাড়াও নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। এভাবে একজন ব্যক্তি তার হার্ট ভালো রাখতে পারে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ডাক্তারদের তালিকাঃ

বাংলাদেশে হার্ট এর চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অন্যতম প্রতিষ্ঠান । এখানে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা হবে থাকে।

নিচে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর ডাক্তারদের একটি তালিকা দেওয়া হল।

অধ্যাপক আব্দুল মালিক

এমবিবিএস (ঢাকা), এমারসিপি (ইউকে), এফসিসিপি ( আমেরিকা)

অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক

এমবিবিএস (ঢাকা),এফসিপিএস (মেডিসিন) , M.R.C.P (U.K.)

ডাঃ নাজির আহমেদ
এমবিবিএস, এমডি (কার্ডিওলজি), এফএসিসি

ডাঃ মোহাম্মদ বদিউজ্জামান
এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি)

ডাঃ মীর নেছারউদ্দিন আহমেদ
এমবিবিএস, এমডি (Cardiology)

ডাঃ অশোক কুমার দত্ত
এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি

ডাঃ মোহাম্মদ কবিরুজ্জামান
এমবিবিএস, এমডি (কার্ডিওলজি)

ডাঃ ধীমান বণিক
এমবিবিএস, ডি-কার্ড, এমডি ( কার্ডিওলজি)
ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান
এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি)

ডাঃ তৌফিক শাহরিয়ার হক
এমবিবিএস, ডি-কার্ড, এমডি (কার্ডিওলজি)
ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ খান
এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি)

ডাঃ মোঃ কলিমুদ্দিন
এমবিবিএস, এমডি (কার্ডিওলজি-ডিইউ), এমডি (ইউএসএসআর)

ডাঃ মোঃ ফরহাদ জামাল

এমবিবিএস ( ঢাকা), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি-এনআইসিভিডি)

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর অবস্থান

প্লট নং ৭/২, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

ওয়েব সাইটঃ www.nhf.org.bd

মন্তব্যঃ

আজকের এই আর্টিকেলটিতে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার,হার্টের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা,ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ডাক্তার তালিকা,মেয়েদের হার্টের সমস্যার লক্ষণ বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি । আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে এসেছে ।

যদি আজকের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার আপনাদের বন্ধু অথবা পরিচিত জনদের সাথে শেয়ার করবেন । এই সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করবেন ।
ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button