প্রযুক্তি

নাক ডাকা বন্ধ করার উপায়, নাক ডাকার কারণ ও চিকিৎসা

নাক ডাকা বন্ধ করার উপায়

নাক ডাকার সমস্যা আপাত দৃষ্টিতে খুব বিরক্তিকর মনে হলেও পরবর্তীতে হার্টের সমস্যার লক্ষণ  বলে চিহ্নিত করা হয়। শুরুতেই নাক ডাকার বন্ধ করার উপায় খোঁজে না পেলে সমস্যা আরও জটিলটা সৃষ্টি হতে পারে। নাক ডাকা খুবই বিরক্তিকর ও বিব্রতকর সমস্যা হলেও যিনি নাক ডাকেন কিছুতেই বুঝতে পারেন না। মূলত ঘুমন্ত ব্যক্তির শ্বাসনালিতে বাতাসের বাধা পাওয়ার কারনেই হয়ে থাকে। এর কারনে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে ঘুমের মধ্যে আশ্চর্য মৃত্যুও হতে পারে। তাই এর  কারণগুলি চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। 

নাক ডাকা কি ?

আমাদের অনেকের ঘুমের মধ্যে নাক ডেকে থাকেন। সাধারণত ঘুমন্ত ব্যক্তির চোয়াল, গাল ও জিহ্ববার পেশীগুলি শ্বাস-প্রশ্বাসের রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে থাকে। এতে পেশিগুলি যখন বিশ্রামে চলে যায় তখন শ্বাস -প্রশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয় ও অদ্ভূত এক ধরনের শব্দ  হয়। এই অদ্ভূত আওয়াজকে নাক ডাকা বলে অবহিত  করা হয়। যখন আমরা জেগে থাকি তখন শ্বাসনালীর পেশির দৃঢ়তা শ্বাসনালীকে মজবুত ও সঠিক আকৃতি বজায় রাখে বলে শব্দ হয় না। 

নাক ডাকার কারণ

নাক ডাকা মানেই নাকের সমস্যা নয়। নাক ডাকার পেছনে অনেক কারন থাকতে পারে। জাতীয় নাক, কান ও গলা ইন্সটিটিউটের সহকারী রেজিস্টার ডাঃ মাহফুজ আহম্মেদ বলেন, নাকের সমস্যা ছাড়াও নাক ডাকতে পারেন। তিনি আরও বলেন নাক ডাকা হয় মূলত নাক, নাকের পেছনের অংশ ও গলা এই তিনটি অঙ্গের সমস্যার কারন।এই তিনটি অঙ্গের যে কোনো ধরনের সমস্যা হলে নাক ডাকা দেখা দিতে পারে।

১। নাকের এলার্জি, মুখমন্ডলের এবং সাইনাসের গঠনগত ভিন্নতার কারণে নাক ডাকা সমস্যা হতে পারে।

২। দেহের অতিরিক্ত ওজন বা যারা অধিক মোটা। 

৩। নাকের হাঁড় বাকা হয়ে যাওয়া।

৪। ঘুমের ওষুধ কিংবা অন্য কোন ওষুধ খাওয়ার কারনে।

৫। অধিক ডিপ্রেশনে ভোগা।

৬। অ্যালকোহল, মদ পান করার কারনে।

৭। নাকের মাংসপেশি খুলে থাকলে।

৮। নাকে পলিপ হলে।

ডাকা বন্ধ করার উপায় ,নাক ডাকার কারণ ও চিকিৎসা
ডাকা বন্ধ করার উপায়,নাক ডাকার কারণ ও চিকিৎসা

৯। নাকে কোনো ধরনের টিউমার থাকলে।

১০। নাকের বাল্বগুলো ছোট হলে।

১১। নাকের পেছনের টন্সিল অধিক বড় হলে।

১২। গলার মধ্যে কোন ধরনে টিউমার থাকলেও নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 এছাড়া যাদের জিহ্বা লম্বা এবং মোটা আবার জন্মগতভাবে যদি চোয়াল পেছনের দিকে থাকে; তাদেরও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে।

 বিবিসি সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয় বয়স বাড়ার সাথে সাথে নাক ডাকার সমস্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এর সাথে  শরীরের আকার এবং গঠন ও জড়িত। যাদের গলা ছোট এবং প্রশস্ত থাকে তাদের নাক ডাকার সমস্যা বাড়ে। কারণ ওই ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে শ্বাসনালীর চারপাশের চর্বির কারণে সেটি সংকীর্ণ হয়ে আসে। সাধারণভাবে বলা যায় যে যাদের কালারের মাপ ১৬.৫ ইঞ্চি তাদের নাক ডাকার সম্ভাবনা বেশি।

 শিশুর নাক ডাকার কারণ

সম্প্রতি এ গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে প্রাপ্তবয়স্ক  ৪০শতাংশ পুরুষ এবং ২০শতাং নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। কিন্তু এ নাক ডাকা শুধুমাত্র বড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই শিশুদেরও নাক ডাকার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শীতকালে শিশুদের নাক ডাকার পরিমাণ একটু বেশি দেখা। যায় অনেকে হয়তো দেখে থাকবেন আপনার শিশু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকছে।

সাধারণত সর্দি বা এলার্জি শিশুর নাক ডাকার প্রধান কারন হতে পারে। তবে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানানঃ বাচ্চাদের নাক ডাকার জন্য এডনয়েড ও টন্সিল দায়ী।

নাক ডাকা বন্ধ করার উপায়

নাক ডাকা বন্ধ করার উপায় জানতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম নাক ডাকা সমস্যার প্রধান কারণগুলি জানতে হবে। আপনি যদি নিশ্চিত করতে পারেন আপনার নাক ডাকা কেন হচ্ছে। তাহলেই নাক ডাকা সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে নাক ডাকা বন্ধ করার কয়েকটি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলঃ

ওজন কমানোঃ যাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি জমে গেছে তাদের নাক ডাকা বন্ধ করার সহজ উপায় হচ্ছে শরীরের ওজন কমানো। শরীরের অতিরিক্ত ওজন শ্বাস নালীর বায়ুকে বাইরে বের হতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে নাকে মাধ্যমে প্রশ্বাসের বাতাস বের হওয়ার সময় নাকে বিকট আওয়াজের সৃষ্টি হয়। তাই আপনি যদি নাক ডাকা সহজে বন্ধ করতে চান আপনাকে ওজন কামাতে হবে।

ঘুমানোর ভঙ্গি বদলানোঃ নাকে এলার্জি বা পলিপাসের সমস্যা না থাকলে অনেকর নাক ডাক ডাকতে দেখা যায়। এক্ষত্রে নাক ডাকার জন্য আপানার শোয়া দায়ী নয় তো? আপনার নাক ডাকার জন্য যদি আপনার ঘুমানোর ভঙ্গি দায়ী থাকে থাকে তাহলে অবশ্যই এর পরিবর্তন আনতে হবে।

নাক ডাকা বন্ধ করার উপায়
নাক ডাকা বন্ধ করার উপায়

আপনি যদি চিত হয়ে ঘুমান তাহলে নাকের ভেতর দিয়ে বাতাস বেড়াতে বাধার সৃষ্টি হয়। এর ফলে কম্পনের পাশপাশি বিকট আওয়াজের সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই নাকা ডাক বন্ধে ঘুমানোর পরিবর্তনই আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।

রাতের খাবারের প্রতি খেয়লা করুনঃ খাবারের কারনে অনেক সময় নাক ডাকা দেখা দিতে পারে। আপনার খাবারে যদি অতিরিক্ত মসলা ব্যবহার করা হয় তাহলে তা আজই পরিহার করুন। অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার পাকস্থলিতে এসিডিটি সৃষ্টি করে। এর সাথে নাক ডাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

আর আপনি যদি রাতের বেলায় অধিক পরিমাণে দুগ্ধজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন তাহলেও নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনি যদি নাক ডাকা বন্ধ করার উপায় জানতে তাহলে আমাদের পরমর্শ থাকবে এ জাতীয় খাবার পরিহার করার।

ব্যায়াম করাঃ ব্যায়াম মানুষের দেহ ওমন উভয়কেই ভাল রাখে। ব্যায়মের মাধ্যমে শরীরের বাইরের গঠনের পাশাপাশি ভিতের অর্গানের গঠন পরিবর্তন করা সম্ভব।যে সকল মানুষের নাক কিংবা শ্বাসযন্ত্রের গঠনগত সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ব্যায়াম করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

শারিরিক অঙ্গের ত্রুটি দূর করাঃ আপনি যদি শারীরিক কোন অঙ্গের ত্রুটির কারনে নাক ডাকা সমস্যায় ভোগে থাকেন তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করতে হবে। আর যদি কোন শারীরিক জটিলতা না থাকে বা শরীরের সকল অঙ্গের গঠনের কোন ধরনের পরিবর্তন না হয় তাহলে সহজেই নাক ডাকা বন্ধ করার উপায় পেয়ে যাবেন।

কিছু বদ অভ্যাস ত্যাগ করুনঃ অনেকে ধুমপান, মদ এবং অ্যালকোহল সেবন করে থাকেন। এর ফলে শ্বাসনালীর চিকন হয়ে যায়।শ্বাসনালীর গঠন ও আকৃতিগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই আপনি যদি চিরতে নাক ডাকা বন্ধ করার উপায় খোঁজেন এসব পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নাক ডাকার চিকিৎসা

চিরতরে নাক ডাকা থেকে মুক্তি পেতে নাক ডাকার  চিকিৎসা করতে হবে। আপনার যদি নাকের হাড় বাঁকা, টনসিল অথবা পলিপাসের মত জটিল সমস্যা থাকে।  তাহলে অপারেশনের মাধ্যমে তা দূর করতে হবে। অনেকের শ্বাসনালীর টিউমারের সমস্যার কারনে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অব্যশই ভাল  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নাক ডাকার চিকিৎসা
নাক ডাকার চিকিৎসা

আর যদি নাক ডাকার  বন্ধ করার মেশিন ব্যবহার করেন তাহলেও ভাল ফল পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে নাক ডাকা বন্ধ করার মেশিনের দাম ৩৬৫ টাকা

নাক ডাকা বন্ধ করার ঔষধ

নাক ডাকার কারন যদি এলার্জি অথবা ঠান্ডাজনিত কারনে হয়ে থাকে তাহলে কিছু ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে এর নিরাময় করা সম্ভব। প্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা শিশু উভয়ই এধরনে ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন। নাক ডাকা বন্ধ করার ঔষধ হিসেবে নাজাল ড্রপ, ইনহেলার বা অ্যান্টি এলার্জি ওষুধ গ্রহন করা যেতে পারে। তবে যে কোন ধরনের ওষুধ খাওয়া কিংবা নাকে ব্যবহার করা ডাক্তারের নির্দেশনা মেনেই নিতে হবে।

নাক ডাকা বন্ধ করার দোয়া

আপনারা যারা ঘুমের ঘোরে নাক ডাকা, কাথা বলে থাকেন ঘুমানোর পূর্বে অব্যশই অজু করে ঘুমাবেন। আর ঘুমানোর পূর্বে নাক ডাকা বন্ধ করার দোয়া হিসেবে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমাবেন।নিচে দোয়াটি হলঃ

আরবি উচ্চারণ হলো- ০ اللهم باسمك أموت وأحيا

বাংলা উচ্চারণ হলো- ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া।’

পরিশেষে,

ব্রিটিশ স্নোরিং স্লিপ অ্যাপনিয়া এসোশিয়েশনের তথ্য মতে, নাক  ডাকা চাইলেই বন্ধ করা যায় না।এটি হঠাৎ করে নিরাময় হয় না, তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। শারীরিক অস্বাভাবিক তার কারণে নাক ডাকে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণের আগে জানতে হবে কোন ধরনে সমস্যার কারনে আপনি নাক ডাকছেন। আপনি যদি আমাদের দেয়া নাক ডাকা বন্ধ করার উপায় অনুসরণ করেন তাহলে এর থেকে মুক্তি মেলবে। 

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়া বা অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৪ঘন্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে। চিত হয়ে না শুয়ে যে কোন একপাশে শুয়ে ঘুমাতে হবে। কারন চিত হয়ে ঘুমালে জিহবা গলার উপরে পরে যা মুখের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচলে বাধা দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button