অন্যন্য

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ 2023 -ভিজিট ভিসা প্রসেসিং করার বিস্তারিত নিয়ম

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ ২০২৩ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে জনবহুল ও সর্ববৃহৎ সুন্দরতম শহর। ব্যবসা-বানিজ্য, ভ্রমণ ও শিক্ষার জন্য প্রতি বছর এই দেশে বিভিন্ন দেশের লোক ভিড় জমায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দুবাই ভিজিট করতে যায়। কিন্তু দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ কত? ভিসা কবে খুলবে এবং ভিজিট ভিসা প্রসেসিং করার নিয়ম সম্পর্কে ধারনা না থাকায় অনেক জামেলায় পড়তে হয়। তাই আজকের আর্টিকেলটিতে দুবাই ভিসা সংক্রান্ত সকল তথ্য বিস্তারিত লিখছি।

দুবাই ভিজিট ভিসা কবে খুলবে

ভ্রমণ ভিসা আরও সহজ করল সংযুক্ত আবর আমিরাত। ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দীর্ঘদিন করোনার জন্য এক দেশ থেকে অন্যদেশ ভ্রমন নিষিদ্ধ ছিল। তাই দুবাই শহরে যাওয়ার জন্য সকল প্রকার ভিসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি ভিসা খুলে দিয়েছে।

আপনারদের অনেকে দুবাই ভিজিট ভিসা কবে খুলবে এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলব করোনা মহামারীর পর পরই ২০২১ সালের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটিতে করোনার পর ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হবে। করোনার টিকার সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস লাগবে।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ

আমাদের অনেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাইতে ভিজিট ভিসায় এসে পরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা লাগাতে চান। আপনি যদি শুধু ভিজিট ভিসায় দুবাইতে যান তাহলে এক ধরনের খরচ পড়বে। আর যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় দুবাই যান তাহলে খরচ একটু বেশি পড়বে।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ
দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ ১৫০০০ – ২০০০ টাকা মত পড়বে। তবে আপনি যদি আপনার নিকস্থ কোন আত্মীয়ের সহযোগিতায় দুবাই যান সেক্ষেত্রে খরচ কম লাগতে পারে। সরকারি সহযোগিতায় দুবাই ভিজিট করতে টাকা অনেক টাকা কম লাগে। আপনি যদি দুবাই ভিটিজ করতে যান তাহলে সরকারি ও বেসরকারি এজেন্সিদের সাথে কথা বলে নিতে হবে। আপনি দুই তিনটা এজেন্সির  সাথে কথা বলার পর দুবাই ভিজিট ভিসার দাম সম্পর্কে সঠিক ধারনা পেয়ে যাবে।

দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ লোক দুবাই শহরে প্রথমে ভিজিট ভিসায় প্রবেশ করে। পরে আস্তে আস্তে দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা লাগায়। আপনি যদি ভিজিট ভিসায় এসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা লাগাতে চান সেক্ষেত্রে কত টাকা লাগতে পারে এই সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব।

আপনারা যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিজিট ভিসায় এসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা লাগাতে চান তাদের সর্বপ্রথম তিন মাসের ভিজিট ভিসায় দুবাইতে আসতে হবে। দুবাইতে প্রথমে এক মাসের জন্য ভিজিট ভিসা দেওয়া হয়। তাই প্রথমে এক মাসের ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাইতে এসে আরও দুবাই মাসের ভিজিট ভিসার সময় এক্সটেন্ট করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি প্রতি এক মাসের দুবাই ভিজিট ভিসার খরচ গড়ে ১৫০০০ টাকা করে হিসেব করেন তাহলে তিন মাসের জন্য দুবাই ভিজিট ভিসার দাম হবে ৪৫০০০টাকার মত।

দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

তিন মাসের ভিজিট ভিসার ভিতরেই আপনাকে দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ম্যানেজ করতে হবে। আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ম্যানেজ করতে পারেন তাহলে সহজেই দুবাইয়ের বিভিন্ন ফ্লিডে কাজ করতে পারবেন। এভাবে আপনি দুবাই ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ম্যানেজ করে স্থায়ীভাবে কাজ করতে পারবেন।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ ও প্রসেসিং

তিন মাসের জন্য শুধুমাত্র দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ হবে ৪৫০০০ টাকার মত। এরপর আপনাকে বিমান টিকেট নিতে হবে। বিমান টিকেটের জন্য ৫০০০ টাকা ৫৫০০০ টাকার মত খরচ পড়বে। এটি একটি আনুমানিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সময়ের সাথে এর পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।

এরপর আপনাকে একটি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে হবে। আপনার ভিজিট ভিসার সাথেই ট্রাবেলস ইন্সুরেন্স দিয়ে দেওয়া হবে। আপনি যেহেতু ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাই যাবেন সেক্ষেত্রে আপনাকে একটি হোটেল বুকিং করতে হবে। আপনি যে এজেন্সির মাধ্যমে যাবেন তারাই ব্যবস্থা করে দিবে। আপনি এজেন্সির সাথে দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ
দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ

আপনার দুবাই ভিজিট ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন হলে আপনাকে এয়ারপোর্ট কন্টাক্ট করতে হবে। এয়ারপোর্ট কন্টাক্ট এর সম্পূর্ণ বিষয় নির্ভর করবে আপনার উপর। দেখা গেছে আপনার যদি পরিচিত লোক থাকে তাহলে অল্প টাকার মধ্যে ম্যানেজ করতে পারবেন। তবে সচরাচর এয়ারপোর্ট কন্টাক্ট করার সময় ৩৫০০০ টাকা থেকে ৪০০০টাকার মত খরচ হয়ে থাকে। আপনি বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট কন্টাক্ট ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত যেতে পারবেন না। সব কিছু মিলিয়ে তিন মাসের জন্য দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ ১২০০০০ টাকার মত লাগবে।

দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিজিট কিংবা কাজের জন্য যেতে হলে অব্যশই কিছু প্রয়োজনীয় কাজগপত্র লাগবে। ভিসা প্রসেসিং এর সময় প্রয়োজন কাগজপত্রের অসংগতি থাকলে ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। তাই ভিসা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিতে হবে। চলুন তাহলে দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি লাগবে জেনে নেওয়া যাকঃ

দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের দুইকপি ছবি।

২। আপনি যদি পূর্বে পাসপোর্ট করে থাকেন তাহলে এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।

৩। নাগরিক সনদপত্র।

৪। করোনা ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট।

৫। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।

৬। জন্মনিবন্ধন কাগজের ফটোকপি।

৭। ভিজিট ভিসার অনুমোতিপত্র।

ভিজিট ভিসা থেকে দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দাম

দুবাই ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করার জন্য কয়েকটি প্রসেস সম্পন্ন করতে হয়। আপনি যখন ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাই যাবেন সেখানে অনেক কোম্পানি জব অফার করতে পারে। আপনি সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিতে পারলে কোন টাকা লাগবে না। কারন বড় বড় কোম্পানিগুলো কোন প্রকার টাকা না নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

আর আপনি যদি কারও মাধ্যমে যান তাহলে আপনাকে তাকে টাকা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাধ্যমের লোকগুলি প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখে কোন কম্পানি কবে লোক নিবে, কবে তাদের ইন্টারভিউ হবে। এই ধরনের ব্যক্তিরা ভিজিট ভিসা থেকে দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দাম হিসেবে ৭০০০০টাকা থেকে ৭৫০০০টাকা নিয়ে থাকে। আর আপনারা যদি নিজে নিজে জব ম্যানেজ করতে পারেন তাহলে কোন টাকাই লাগবে না।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ নিয়ে আপডেট তথ্য

সস্প্রতি সযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ ভিসাকে সহজ করে দিয়েছে। দেশটির ভিসা কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসার জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি আবেদনের সাপেক্ষে ভিসা মেয়াদ বাড়ানোতে দুই মাস বাড়িয়েছে।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ 2023 ভিজিট ভিসা প্রসেসিং করার বিস্তারিত নিয়ম
দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ 2023 ভিজিট ভিসা প্রসেসিং করার বিস্তারিত নিয়ম

এবাবিয়ান বিজনেসের এক প্রদিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটিতে প্রবেশের পূর্বেই ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ফি দিতে ২০০ আমিরাতে দেরহাম। এছাড়া স্মার্ট পরিশেবার জন্য ১০০দেরহাম, ইলেকট্রনিক্স পরিশেবার জন্য ৫০ দেরহাম ও অথরিটি পরিশেবার জন্য আরও ৫০ দেরহাম পরিশোধ করতে হবে।

দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে বা অনুমোদিত কেন্দ্রগুলো থেকে দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদন করা যাবে। আবেদনকারী ৩০ দিনের ভেতর সকল শর্ত পূরণ না করলে তার আবেদন সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে দেওয়া হবে। তাছাড়া বার বার অস্মপূর্ণ আবেদনপত্র জমা দিলে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পার। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস সময় থাকতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অথরিটি ফর ফেডারেল আইডেন্টি এন্ড সিটিজেনশিপ ICA কাস্টমস এন্ড পোস্ট সিকিউরিটি ১৫ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছে পূর্বে ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন থাকলেও বর্তমানে ভ্রমন ভিসার মেয়াদ ৯০ দিন করা হয়েছে। আপনি অনলাইনের মাধ্যমে দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদন করার নিয়ম জানতে https://www.dubaivisa.net এই ওয়েবসাইটি ভিজিট করুন।

পরিশেষে,

যে কোন দেশে ভিজিটের পূর্বে ঐ দেশের ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। আপনি যদি দেশিটি ভিসা করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন তাহলে আপনার ভ্রমন করতে সুবিধা হবে। তাই দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিতে হবে। আপনি যে এজেন্সির সাথে ভিসা করবেন তাদের থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। দুবাই ভিসার দাম সম্পর্কে ভাল আইডিনিয়া নেওয়ার জন্য দুই বা ততোধিক এজেন্সির সাথে কথা বলে নিতে পারলে ভিসা করতে সুবিদা হবে। তাই যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমে দুবাই ভিজিট ভিসা করার পরামর্শ রইল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button