প্রযুক্তি

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ? ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ?

বর্তমান সময়ের বহুল পরিচিত রোগটি হচ্ছে ডায়াবেটিকস । আমাদের দেশে এই রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে । আপনাদের যদি ডায়াবেটিকস কত হলে নরমাল ?

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল,খাওয়ার পর ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এবং ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকে তাহলে নিজেকে ডায়াবেটিকস এর হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারেবেন। তাই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন….

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল,খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ও ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল,খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ও ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিকস কি ?


ডায়াবেটিক বা বহুমূত্র হলো এক ধরণের মেটাবলিক ডিজঅর্ডার । এই রোগটিকে অনেকে হরমোনাল রোগ বলে পরিচিতি দিয়ে থাকেন। সাধারণত মানদেহে যখন প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত গ্লুকোজ দীর্ঘদিন জমা থাকে বা শরীর তার প্রয়োজন অনুয়ায়ী ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে না তখন ডায়াবেটিকস রোগটি দেখা দেয়।

ডায়াবেটিকসের প্রকারভেদঃ

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস ৪ ধরনের হয়ে থাকে । যেমনঃ টাইপ-১, টাইপ-২, গেস্টেশনাল ও অন্যান্য।

  • টাইপ-১ ডায়াবেটিসঃ প্রায় ৫-১০ % মানুষ টাইপ-১ ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত হয়ে থাকে । সাধারণত এই সকল ব্যক্তির দেহে সব ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায় । তাই এদের ইনসুলিন দিতে হয় ,আর ইনসুলিন না দেয়া হলে তারা মারা যেতে পারে।
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিসঃ প্রায় ৮০-৯০ % মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিস ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত। এ ধরনের রোগীর দেহে শরীরে ইনসুলিন আছে কিন্তু সেটা কাজ করতে পারছে না। তখন তার যে কোন খাবার খাক না কেন তা গ্লুকোজ হিসেবে শরীরে জমে যায় ।
  • গেস্টেশনাল ডায়াবেটিসঃ গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস পাওয়া যায়। সাধারণত গর্ভাবস্থায়, প্লাসেন্টার কিছু হরমোন ইনসুলিন প্রতিরোধের জন্য দায়ী থাকে ।তবে বেশিরভাগ মহিলাই প্রসব পরবর্তী স্বাভাবিক গ্লুকোজ সহনশীলতায় ফিরে আসেন কিন্তু পরবর্তী জীবনে ডায়াবেটিস হওয়ার যথেষ্ট ঝুঁকি (30-60)% থাকে যায় । প্রায়( ২-৫)% মানুষ এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।
  • অন্যান্য টাইপ ডায়াবেটিসঃ
  • অনেক ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার কোন বৃদ্ধি পায় না (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। এর ফলে হলে প্রচণ্ড তৃষ্ণার অনুভূতি পায় এবং কম অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন নিঃসরণের কারণে অধিক প্রস্রাব তৈরি হয়। এছাড়াও অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন ভ্যাসোপ্রেসিনের নিঃসরণ কমে যাওয়ায় প্রস্রাবের চরম উৎপাদন হয়। এই টাইপে প্রায় ১-২ শতাংশ মানুষের আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস টেস্ট কত ধরণের ?

ডায়াবেটিকস নির্ণয়ের জন্য ৪ ধরনের ডায়াবেটিস টেস্ট করা হয়ঃ

১) FBS : fasting blood sugar : ডায়াবেটিকস নির্ণয়ের এর এ টেস্টটি ৮-১০ ঘন্টা না খেয়ে করতে হয়।এই টেস্টটি করার জন্য সকালবেলা অধিক উপযুক্ত ।

ডায়াবেটিস টেস্ট কত ধরণের
ডায়াবেটিস টেস্ট কত ধরণের


২। 2hrs ABF: 2hrs After breakfast : সকাল বেলার নাস্তা খাওয়ার ২ ঘন্টা পর এই টেস্ট করতে হয়।

৩। 2hrs 50/75g Glucose: এই টেস্টটির জন্য সকালবেলার নাস্তা না খেয়ে
50/75g গ্লুকোজ খেয়ে তার ২ ঘন্টা পর করতে হয়।
৪। RBS: Random Blood Sugar: সাধারণত ডায়াবেটিস এর এই টেস্ট টি নাস্তা খাওয়ার ২ ঘন্টা পর করতে হয়।

এছাড়াও
৫। HBA1C : এই টেস্টটি হলো ডায়াবেটিস এর ৩ মাসের গড় পরিমাণ নির্ণয় করার করার জন্য করা হয়।

ডায়াবেটিস কত পয়েন্ট হলে নরমাল ?


একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তের স্বাভারিক শর্করার মাত্রা হচ্ছে 140 mg/dL (7.8 mmol/L) এর চেয়ে কম । আর যদি এর মাত্রা দুই ঘণ্টা পর 200 mg/dL (11.1 mmol/L)এর বেশি পাওয়া যায় তাহলে ডায়াবেটিকসের উপস্থিতি নির্দেশ করে থাকে । সাধারণত কোন ব্যক্তির রক্তের শর্করার মাত্রা যদি 140 mg/dLএবং 199 mg/dL (7.8 mmol/L এবং 11.0 mmol/L) মধ্যে থাকে তাহলে প্রি ডায়াবেটিকস এর লক্ষণ বলে চিহ্নিত করা হয়

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

অনেক মনে প্রশ্ন জাগে খালি পেটে ডায়াবেটিকস কত হলে নরমাল । আসুন জেনে নেয়া যাক খালি পেটে ডায়াবেটিকস এর নরমাল মান কত । কোন ব্যক্তির যদি খালি পেটে ডায়াবেটিকস এর পাঠ 100 mmol/dL নিচে থাকে তাহলে ডায়াবেটিকস নরমাল ধরা হয়। তবে ডায়াবেটিকস এর প্রাইমারি লক্ষণ হল খালি পেটে এর মান ( 70-130)mmol/dL।

খাওয়ার পর ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

আমরা উপরে জানতে পেরেছি খালি পেটে ডায়াবেটিকস এর নরমাল মান কত ।এই অংশে জানব খাওয়ার পর ডায়াবেটিকস কত হলে নরমাল ,সাধারণত কোন ব্যক্তির খাবার খাওয়ার পর যদি এর রক্তে শর্করার মান 140mml/dL এর নিচে থাকে তাহলে ডায়াবেটকস এর মান নরমাল ধরা হয়। যদি সুগারের মাত্রা ৭.৮ পয়েন্ট ( mmol/l ) ‘এর থেকে বেশি পরিমাণে বেড়ে যায় তাহলে একে প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিকসের পূর্ব লক্ষণ বলা হয় এবং ১১.১১ পয়েন্টের চাইতে বেশি হলে, তখন ডায়াবেটিসের যথাযুক্ত মাত্রায় চলে যায়।

বাচ্চাদের ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

বাচ্চাদের ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
বাচ্চাদের ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

আমাদের মাঝে অনেকে জানেনই না যে শিশুদেরও ডায়াবেটিকস হয় । তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিকস এর ধরন একটু ভিন্ন ধরনের থাকে । যে সব শিশু ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত হয় তাদের বেশিরভাগই টাইপ -১ ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত হয়ে থাকে । বাচ্চাদের রক্তের স্বাভাবিক গ্লুকোজের মাত্রা হচ্ছে 70 থেকে 150mg/dL এর মধ্যে হয়ে থাকে । কোন কারনে যদি এর মান বেড়ে যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল


ডায়াবেটিকস কত হলে নরমাল এটা জানতে পারলে আপনার ডায়াবেটিকস পরীক্ষা নিয়ে ঝামেল পোহাতে হবে না। সাধারণ ডায়াবেটিকস এর পরীক্ষার জন্য অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই যদি ডায়াবেটিস এর নরমাল মাত্রা কত জানা থাকে তাহলে আপনি অনেক উপকৃত হবে।

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
ডায়াবেটিকস কত হলে নরমাল

আসুন জেনে নেই ডায়াবেটিকস এর নরমাল মান কত।আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন সংস্থা’র তথ্যমতে- সাধারণত HBA1C মান ৫.৭ mmol/dlএর নিচে থাকলে,আপনার ডায়াবেটিকস নরমাল হিসেবে ধরা বিবেচনা করতে পারেন। তবে যদি এই HBA1C মান ৫.৫ থেকে ৬.৯ পয়েন্টের মধ্যে থাকে, এই অবস্থাকে বলে প্রি-ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ:

  • ডায়াবেটিকস প্রধান বাহ্যিক লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাব করা । এই কারণে এ রোগটির নাম বহুমূত্র রোগ ।
  • অধিক তৃষ্ণা লাগা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • সবসময় ক্ষুধা লাগা
  • স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি
  • দূরের কোন জিনিস ঝাপসা দেখা ।
  • কোন জায়াগা কেটে গেলে ঘা না শুকানো

ডায়াবেটিস হওয়ার কারন ও এর জটিলতা

ডায়বেটিকস বা বহুমূত্র রোগটি বংশগত রোগ। এছাড়াও ডায়াবেটিকস হওয়ার কারন গুলি হলঃ

অতিরিক্ত মেদ বা ভুড়ি এ রোগের অন্যতম কারণ ।
উপসর্গহীনতা বা অসচেতনতার কারণে সঠিক চিকিৎসার অভাব ।
কিডনি বা বৃক্কের অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হল ডায়াবেটিস ।
অন্ধত্ব বা দৃষ্টিবিচ্যূতির অন্যতম মূলে রয়েছে ডায়াবেটিস ।
বিনা দুর্ঘটনায় অঙ্গচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিকস কমানোর উপায়ঃ

একজন ব্যক্তি চাইলে তার ডায়বেটিকস কমিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন । ডায়াবেটিকস কমানোর উপায় হিসেবে নিচের কাজগুলি করলে অতি সহজেই ডায়াবেটিকস কমে যাবে।

১। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটতে হবে।
২। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।
৩। খাবার সঠিক সময়ে গ্রহন করতে হবে।
৪। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫। তেল বা চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিকস রোগীর খাদ্য তালিকাঃ

সাধারণত ডায়াবেটিকস রোগীদের খাবারে প্রচুর রুচি থাকে । তাই বলে সকল খাবার খাওয়া যাবে না। কিছু খাবার আছে বেশি পরিমাণে খেতে হবে । আবার কিছু খাবার আছে খুবই অল্প পরিমাণে খেতে হবে । এই অংশে ডায়াবেটিকস রোগীর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

  • বেশি পরিমাণে খেতে হবে যে সকল খাবারঃ

১। শাকসবজিঃ ডায়াবেটিকস রোগীদের প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। প্রতিদিন তাদের খাদ্য তালিকাতে শাকসবজি রাখা উচিত । কেননা শাকসবজিতে শর্করার পরিমাণ কম কিন্তু ভিটামিন ও খনিজ মিনারেলের পরিমাণ
অনেক বেশি । শাকসবজি হিসেবে একজন ডায়াবেটিকস রোগী মটরশুঁটি, বরবটি , শিম, মাশরুম, শশা, পালংশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও লেটুস ইত্যাদি খাতে পারেন ।

ডায়াবেটিকস রোগীর খাদ্য তালিকা
ডায়াবেটিকস রোগীর খাদ্য তালিকা

২। শ্বেতসারঃ ডায়াবেটিকস রোগী তার খাদ্য তালিকাতে কিছু শ্বতসার সমৃদ্ধ খাবার রাখবেন । যেমন: লাল বা বাদামী চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা পাউরুটি
৩। প্রোটিনঃ প্রোটিনে উৎস হিসেবে ডিম, মাছ, মাংস, শিম ও অন্যান্য বীন, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম খেতে হবে।
৪। দুধ ও দুগ্ধজাতঃ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হিসেবে টক দই, ছানা ও পনির খেতে হবে।
৫। তেল বা চর্বিঃ তেল বা চর্বির উৎস হিসেবে সামুদ্রিক মাছ , মাখন, ঘি খেতে পারবেন।

  • যে সকল খাবার কম পরিমাণে খেতে হবে বা বর্জন করতে হবেঃ

১। ফাস্টফুড জাতীয় খাবার যেমনঃ পিজা , বার্গার, স্যান্ডওইস ইত্যাদি খাবার পরিহার করতে পারলে ভাল । তবে কেউ যদি খায় তাহলে খুইব অল্প পরিমাণে খেতে হবে।
২। মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
৩। সাদা আটার রুটি , সাদা ভাত না খেয়ে লাল গমের রুটি খাতে হবে ।

খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপার নিয়ম

খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপার জন্য আপনাকে অন্তত ১০ ঘন্টা আগে খাবার গ্রহন করতে হবে। অর্থাৎ ডায়াবেটিস মাপার আগের দিন রাতে আগেই খাবার খেতে হবে। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপার পর সকালের নাস্তা খেতে হবে। সকালের নাস্তা খাওয়ার ২ ঘন্টা পর আবার পুনরায় রক্তের শর্করা মেপে নিতে হবে। খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপার নিয়ম হিসেবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত থাকে ?

আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কোন ব্যক্তির রক্তে HBA1C মান 5.7 এর নিচে থাকলে তার ডায়াবেটিস স্বাভাবিক বলে গণ্য হবে । আর যদি এই HBA1C মান 6.5 এর বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে গণ্য হবে।

ডায়াবেটিস কত হলে বিপদজনক

কোন ব্যক্তির দেহে রক্তের সুগারের মাত্রা ১৬.৭ মিলিমোল বা ৩০০গ্রামের ডেসি /লিটারের বেশি হয় অথবা গড় শর্করা হিমোগ্লোবিন A1C এর মান ১০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির ডায়াবেটিস বিপদজনক বলে ধরা হবে।

ডায়াবেটিস কত হলে ঔষধ খেতে হবে

রক্তে HBA1C মান ৫.৭ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে থাকলে প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের পূর্বাবস্থা হিসেবে বিবেচন বিবেচিত হবে। এই অবস্থায় খাবার নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস কমানো সম্ভব হবে। আর যদি HBA1C এর মান ৬.৫ থেকে বেড়ে যায় তাহলে ডায়াবেটিস কমানোর জন্য ঔষধ খেতে হবে । হবে

খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

নাম শুনলেই ভিতি সৃষ্টি হওয়া রোগ ডায়াবেটিস । তবে খাদ্যাবাসের পরিবর্তন করলে খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানো সম্ভব । রোগটির নিয়ন্ত্রণে খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে মৌসুমি ফল ও সজবি খেতে হবে। আর প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটতে হবে।

ডায়াবেটিস এর চিকিৎসা:

যাদের ডায়াবেটিকস হয়েছে তাদের ডায়াবেটিস এর চিকিৎসা নিমোক্ত পদক্ষেপগুলি গ্রহন করতে হবে।

  • ইনসুলিন গ্রহন করতে হবে ।
  • অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ খেতে হবে।
  • জীবনধারার পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য গ্রহণে সচেতনতা,ডায়াবেটিকস সম্বন্ধে রোগীর প্রয়োজনীয় ধারণা।

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায় সেটা নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যায় না। তবে ডায়াবেটিস এর মাত্রা বেড়ে গেলে মানুষের স্ট্রোক, হার্ট এর সমস্যা, কিডনি সমস্যা হয়ে মারা যায়।

ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয় ?

ডায়াবেটিকস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মধ্যে যদি শর্করা ১৬.৭ mlmol বা ৩০০ gm /dl বেশি বা গড় শর্করা HB1C ১০ শতাংশের বেশি হয় সেক্ষেত্রে ইনসুলিন নিতে হয়।

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়

ডায়াবেটিকস নানা রোগ যেমনঃ স্ট্রোক, হার্ট এর সমস্যা, কিডনি সমস্যা সৃষ্টি করে । এতে রোগী মারা যেতে পারে । তবে ডায়াবেটিকস কত হলে মানুষ মারা যায় এর কোন নির্দষ্টতা নেই।

ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হয়?

ডায়াবেটিকস একটি বংশগত রোগ । এই রোগ নিয়ে যারা ভোগছেন তাদের ডায়াবেটিকস চিরতরে নিরাময় করা সম্ভব নয় । তবে ওষুধ, ব্যায়াম, খাবার-দাবার মেনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবেন।

ডায়াবেটিস মাপার সঠিক সময়

সকালবেলা ডায়াবেটিস মাপার সঠিক সময় । সকালে প্রথমে খালি পেটে ডায়াবেটিস মাপতে হবে। এরপর সকালের খাবার খাওয়ার ২ ঘন্টা পর আবার ডায়াবেটিস মাপতে হবে।

সুগার লেভেল কত হলে ডায়াবেটিস

যদি রক্তে সুগার লেবেল এর মান ৬.৫-এর বেশি থাকে তাহলে ডায়াবেটিস বলা হবে। আর যদি এইচবিএ১সির মান ৫.৭ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে থাকে তাহলে তাকে প্রি ডায়াবেটিস বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস এর সর্বনিম্ন পয়েন্ট কত

আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশনের গাইলাই অনুযায়ী এইচবিএ১সির মান ৫.৭ কে ডায়াবেটিস এর সর্বনিম্ন পয়েন্ট ধরা হয় । আর এই এইচবিএ১সির মান ৬.৫-এর বেশি  হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরা হবে।

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে ডায়াবেটিস ?

খালি পেটে এইচবিএ১সির মান ৫.৭-এর নিচে থাকলে তাকে স্বাভাবিক ধরা যায়। আর যদি এইচবিএ১সির মান ৬.৫-এর থেকে বেশি থাকে তাহলে ডায়াবেটিস আছে বলে ধরা হবে।

শেষকথাঃ

আজকের এই আর্টিকেলটিতে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল? খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল? এবং ডায়াবেটিস কমানোর উপায় বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি । আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে এসেছে ।

যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার আপনাদের বন্ধু অথবা পরিচিত জনদের সাথে শেয়ার করবেন । তারাও ডায়াবেটিকস সম্পর্কে জেনে নিজেদের সচেতন করতে পারবে এবং এই সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করবেন ।
ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button